দৃষ্টিকোণ

ব্রাসেলসের আইনের আগেই ক্রেতা কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে

Read in English

একটি নিট পোশাকের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ডিজিটাল পণ্য পরিচয়পত্রে’ (ডিপিপি) শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের তথ্যের বাধ্যবাধকতা থাকবে, তা আজ হলফ করে বলার কোনো উপায় নেই। কারণ, বস্ত্র খাতের জন্য পণ্য-সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত শর্তাবলি এখনো নির্ধারিত হয়নি। ‘টেকসই পণ্যের পরিবেশবান্ধব নকশা বিধিমালা’ (ইএসপিআর) ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং এর অগ্রাধিকার তালিকায় বস্ত্রশিল্পের নাম রয়েছে। কিন্তু ইউরোপীয় কমিশনের বর্তমান রূপরেখা বলছে, বস্ত্র খাতের ‘বিশেষ আইনি প্রজ্ঞাপন’ আলোর মুখ দেখবে ২০২৭ সালের একেবারে শেষ প্রান্তিকে গিয়ে। এরপর নতুন আইনি শর্তগুলো মাঠে গড়ানোর আগে বাণিজ্যিক পরিচালকদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত আঠারো মাসের একটি রূপান্তরকাল বরাদ্দ থাকবে।

কাজেই, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জের কোনো কারখানার টেবিলে বসে কেউ যদি ভয় দেখায়, “আগামী বছর সময়সীমা শেষ, আজই আমাদের প্রযুক্তিগত সমাধান কিনে নিন”, তবে দ্ব্যর্থহীন পাল্টা প্রশ্নটি হওয়া উচিত: কোন সময়সীমা? আর সেই সময়সীমাটি কে নির্ধারণ করেছে?

আগামী দুটি বছর কি আপনি নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগাবেন, নাকি স্রেফ আইনি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে থেকে সময় নষ্ট করবেন, তা কিন্তু ঐ বাহ্যিক বিতর্কের নিচে চাপা পড়ে আছে। আদতে মূল প্রশ্ন ব্রাসেলসের আইন কবে পাস হবে, তা নিয়ে নয়। মূল প্রশ্নটি হলো, আপনার ক্রেতা কবে জবাবদিহি চাইতে শুরু করবে।

এই দুটি সময়সীমা কোনোভাবেই এক নয়। আইনের খড়্গ নেমে আসার অনেক আগেই আপনাকে ক্রেতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

আইন কখনো আগে পথ দেখায় না

নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে উৎপাদন প্রাঙ্গণ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন যে কাউকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। বাংলাদেশের কোনো বিধিবদ্ধ আইনই রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর জন্য সার্বজনীনভাবে ‘আইএসও ৯০০১’ মানদণ্ডকে বাধ্যতামূলক করেনি। একইভাবে বিএসসিআই, সেডেক্স, ডব্লিউআরএপি বা হিগ-এর মতো মানদণ্ডগুলোও সব রপ্তানিকারকের ওপর সমানভাবে চাপানো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তা সত্ত্বেও এগুলো সরবরাহকারীদের জন্য কার্যত বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছিল, কারণ ক্রেতারা তাদের পণ্য সংগ্রহ বা ক্রয়চুক্তিতে এগুলো জুড়ে দিয়েছিল। যেসব কারখানা এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল, তারা সরাসরি ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছিল।

সেই সময় কারখানাগুলোর মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য কোথায় তৈরি হয়েছিল, তা একটু ফিরে দেখা যাক। কে মানদণ্ডের নিয়মকানুন সবচেয়ে ভালো বুঝত, তার ওপর ফলাফল নির্ভর করত না। বরং প্রশ্নপত্র আসার আগেই কার ভেতরের সংরক্ষিত তথ্য কতটা গোছানো ছিল, সেটাই ছিল প্রধান নিয়ামক।

যে কারখানার উৎপাদন রেকর্ড বা নথিপত্র ছিল পরিচ্ছন্ন, তারিখযুক্ত এবং দায়বদ্ধ, তারা নিজেদের কর্মী দিয়েই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি নতুন নিরীক্ষা কাঠামোর শর্ত পূরণ করতে পারত।

অন্যদিকে, যাদের কোনো সুশৃঙ্খল নথিপত্র ছিল না, তাদের তিনগুণ বেশি খরচে পরামর্শক নিয়োগ দিতে হতো, স্মৃতির ওপর নির্ভর করে পিছন থেকে কাগজপত্র জোড়াতালি দিতে হতো এবং নিরীক্ষকের প্রথম জেরাতেই তাদের দুর্বলতাগুলো ধরা পড়ার শঙ্কায় কাঁপতে হতো।

মানদণ্ড কেবল বাইরের খোলস মাত্র। এর গভীরে থাকা নথিপত্রই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে। ঠিক এই প্রবণতাটিই আবারও ফিরে আসছে এবং এবার খোদ তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাটিই হলো মূল বিষয়।

ক্রেতা কেন আইনি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় থাকবে না

আইন আসার আগেই প্রশ্নপত্র হাতে চলে আসার পেছনে একটি স্পষ্ট কাঠামোগত কারণ রয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একটি পণ্য-পরিচয়পত্র তৈরি করার দায়ভার বর্তায় সেই বাণিজ্যিক পরিচালকের ওপর, যে পণ্যটি ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করাচ্ছে। একটি ইউরোপীয় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বা আমদানিকারককে সরবরাহ করা বাংলাদেশি কারখানার ক্ষেত্রে, বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এই দায়ভার কারখানার বদলে সরবরাহ শৃঙ্খলের পরবর্তী কোনো পক্ষের ওপরও থাকতে পারে।

আর এখানেই সেই পরিচালকের মূল সংকট। তাকে পণ্য-পর্যায়ে এমন সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে, যা সে নিজে উৎপাদন করে না। যেমন—সুতার উপাদান, উৎপাদক কারখানার বিবরণ, রং করা ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়াজাতকরণের উপকরণ, এবং কে কখন কী কাজ করেছে। এই সমস্ত তথ্যের উৎস হলো সরবরাহ শৃঙ্খলের আগের ধাপগুলো, যাদের ওপর তার কোনো মালিকানা নেই এবং যাদের চাইলেই যথেচ্ছভাবে নিরীক্ষা করা সম্ভব নয়। ডজন ডজন বা শত শত সরবরাহকারীর কাছ থেকে এই তথ্যের প্রবাহ সংগ্রহ করা কোনো সাধারণ কেনাকাটার বিষয় নয়, এটি একটি বহুবর্ষীয় প্রকল্প।

এর অর্থ হলো, যেসব ক্রেতা ভবিষ্যতে বস্ত্র খাতের ডিজিটাল পরিচয়পত্রের বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়বে, আইনি প্রয়োগের তারিখের অনেক আগেই সরবরাহকারীদের তথ্য পরীক্ষা এবং সংগ্রহ শুরু করার যুক্তিসঙ্গত কারণ তাদের রয়েছে। সরবরাহকারীরা ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম কি না, তা যাচাই করার জন্য চূড়ান্ত রূপরেখার অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ তাদের নেই।

সুতরাং, ঘটনাপ্রবাহ এমন নয় যে: প্রথমে নিয়ম প্রকাশিত হবে, তারপর ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো তা মেনে চলবে এবং সবশেষে কারখানাগুলোকে প্রশ্ন করা হবে। বরং বাস্তব চিত্র হলো: ক্রেতারা অনেক আগে থেকেই প্রশ্ন করা শুরু করতে পারে, কোন সরবরাহকারীরা সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম তা যাচাই করতে পারে এবং চূড়ান্ত নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তথ্যের ঘাটতি ও শক্তিশালী সরবরাহকারী সম্পর্কগুলো চিহ্নিত করতে পারে।

আইনি সময়সীমার কয়েক বছর আগে থেকেই এই বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

প্রশ্নবাণ ঠিক কেমন হবে

ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে সরাসরি “আপনারা কি ডিজিটাল পণ্য পরিচয়পত্র প্রদানে প্রস্তুত?” এমন প্রশ্ন নাও করতে পারে, কারণ তারা নিজেরাই এখনো চূড়ান্ত উত্তরটি জানে না।

প্রশ্নগুলো আসবে আরও সুনির্দিষ্ট আকারে, যেখানে ফাঁকি দেওয়া বা গল্প বানানো প্রায় অসম্ভব:

উপাদান: নির্দিষ্ট স্টাইলের এই ক্রয়াদেশে সুতার মিশ্রণ বা উপাদান কী ছিল এবং ওই সংখ্যাটি কোন দফার (লটের)?

উৎস: ওই কাপড় কোন কারখানা সরবরাহ করেছে? সুতা এসেছে কোন সুতাকলের কাছ থেকে?

দায়বদ্ধতা: এই তথ্যগুলো কখন এবং কে লিপিবদ্ধ করেছে?

ধারাবাহিকতা: চৌদ্দ মাস আগের একটি চালান সম্পর্কে আজ একই প্রশ্ন করা হলে, ঠিক একই উত্তর পাওয়া যাবে তো?

এই শেষ প্রশ্নটি কারখানাগুলোর মধ্যে আসল পার্থক্য গড়ে দিবে। একজন দক্ষ বিপণন কর্মকর্তা নথিপত্র আর যোগাযোগের সাহায্যে প্রথম তিনটি প্রশ্নের একটি উত্তর হয়তো দাঁড় করাতে পারবেন। কিন্তু ধারাবাহিকতা কখনো পরে বসে কৃত্রিমভাবে সাজানো যায় না। এর সমীকরণ অত্যন্ত স্পষ্ট। হয় তথ্যটি ঠিক ঘটনার মুহূর্তেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং পরে তাতে কোনো ধরনের রদবদল করা হয়নি; আর তা না হলে বুঝতে হবে, পুরো নথিটিই ভিত্তিহীন বা পরে বানানো।

চূড়ান্ত নিয়মের আগে কোন ভিত্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি হলো বিন্যাস স্তর এবং তথ্য সংরক্ষণ স্তরের মধ্যে।

বিন্যাস স্তর বলতে খোদ পণ্য পরিচয়পত্রটিকে বোঝায়। এর মূল কাঠামোগত উপাদান হলো রূপরেখা, শনাক্তকরণ মানদণ্ড, তথ্য বাহক এবং নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্তি। নিবন্ধন ও কারিগরি মানদণ্ডসহ অনুভূমিক কাঠামোর কিছু অংশ ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হলেও, বস্ত্র খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্যের শর্তাবলি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সুতরাং, পোশাকশিল্পের চূড়ান্ত মানদণ্ড ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে, এমন ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে আজ যে ব্যবস্থাই দাঁড় করানো হোক না কেন, ভবিষ্যতে তা পুরোপুরি বাতিল বা নতুন করে ঢেলে সাজানোর ঝুঁকি নিশ্চিতভাবেই থেকে যায়।

তবে তথ্য সংরক্ষণ স্তরের সমীকরণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইনি প্রজ্ঞাপনে শেষ পর্যন্ত যাই লেখা থাকুক না কেন, তথ্যের অন্তর্নিহিত তিনটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যের প্রাসঙ্গিকতা কখনো ফুরাবে না। কারণ, এই তিন ভিত্তিমূল ছাড়া কোনো প্রামাণিক ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি:

উৎস-দায়বদ্ধতা: প্রতিটি দাবির সুনির্দিষ্ট প্রণেতা থাকতে হবে। “কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে”, এমন ভাসা-ভাসা কথার কোনো প্রায়োগিক মূল্য নেই। বরং তথ্যটি সুনির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা পদ্ধতি থেকে সন্নিবেশ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে কি না, সেটাই আসল। উৎসহীন কোনো সংখ্যা নিছকই একটি বায়বীয় দাবি। এরূপ দাবি যাচাইয়ের প্রথম ধাক্কাতেই ধসে পড়বে।

সময়কাল: ক্রেতার দিক থেকে প্রশ্ন আসার পর নয়, বরং ঘটনাটি ঘটার ঠিক মুহূর্তেই তথ্যটি লিপিবদ্ধ হতে হবে। উৎপাদনের পালা বা শিফট চলাকালীন যে তথ্য অন্তর্ভুক্তি হয়, তা হলো অকাট্য প্রমাণ। অন্যদিকে ছয় মাস পর ক্রেতার চাপ সামলাতে গিয়ে বসে বসে টাইপ করা একই তথ্য হলো স্রেফ অতীত জোড়াতালি দেওয়ার কৃত্রিম চেষ্টা, যা দেখলেই ধরে ফেলা যায়।

পরিধি: সংরক্ষিত নথি নিজেই তার সুস্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেবে যে এর আওতায় ঠিক কী কী অন্তর্ভুক্ত আছে এবং কী নেই। তবে একটি নিখুঁত কিন্তু ভিত্তিহীন সরবরাহ শৃঙ্খল দেখানোর চেয়ে, কোনো কারখানা যদি অকপটে স্বীকার করে, “কাটা-সেলাই এবং কাপড়ের নথিপত্র আছে, কিন্তু সুতা তৈরির তথ্য আমাদের কাছে সত্যায়িত নয়”, এই স্বচ্ছতা ক্রেতার কাছে বহুগুণ বেশি মূল্যবান। কারণ, প্রথম নথির সীমাবদ্ধতা জানা থাকে বলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তার ওপর নির্ভর করা যায়। অন্যদিকে, মনগড়া নিখুঁত নথির ঠিক কোন জায়গাটি বানোয়াট, তা যাচাই করার উপায় থাকে না বলে সেটির বিশ্বাসযোগ্যতা পুরোপুরি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

বস্ত্র খাতের চূড়ান্ত রূপরেখা ছাড়াই এই তিনটি বৈশিষ্ট্য আজই তৈরি করা সম্ভব এবং নিয়মের ভবিষ্যৎ সংস্করণগুলোতেও এগুলো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে। এই বিনিয়োগ কখনো বৃথা যাবে না।

সীমাবদ্ধতার রূঢ় বাস্তবতা

বাজারের বর্তমান বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্পষ্ট কথা বলা জরুরি।

যেহেতু বস্ত্র খাত-নির্দিষ্ট আইনি প্রজ্ঞাপন এখনো গৃহীত হয়নি, তাই আজ চূড়ান্ত বিধিমালা-সম্মত ডিজিটাল পণ্য পরিচয়পত্র প্রদান করার দাবি করা অবাস্তব। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা বর্তমানে সচল রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে এর পরীক্ষামূলক পরিবেশ পরখ করে দেখতে পারে। কিন্তু বস্ত্র খাতের পণ্য-সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব এখন উন্নয়ন পর্যায়ে আছে। একজন সরবরাহকারী আজ হয়তো একটি শতভাগ কার্যকর ডিজিটাল পণ্য-নথি দাঁড় করাতে পারবেন; কিন্তু যে আইনি শর্তাবলি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তার ‘বিধিবিধান মানার প্রমাণ’ হিসেবে সেই নথিকে ক্রেতার সামনে তুলে ধরাটা কোনোভাবে পেশাদার সততার পর্যায়ে পড়ে না।

মনে রাখা জরুরি, নিবন্ধনে স্রেফ অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা বাণিজ্যিক পরিচালক হিসেবে যাচাইকৃত হওয়া আর চূড়ান্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্রের শর্তপূরণ অর্জন করা, এগুলো এক বিষয় নয়। এই অন্তর্ভুক্তি বড়জোর নিবন্ধন কাঠামোর ভেতরে আপনার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে; কিন্তু ভবিষ্যতের শর্তাবলি পূরণের কোনো চূড়ান্ত সমাধান এটি দেয় না।

আজই তথ্য সংরক্ষণ করা শুরু করলে কোনো কারখানা জাদুকরীভাবে ‘বিধিসম্মত’ হয়ে যাবে না। কারণ মানার মতো চূড়ান্ত নিয়মগুলো এখনো কার্যকর হয়নি। বরং, এই সংরক্ষণ-ব্যবস্থা কারখানাকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘জবাবদিহি করার যোগ্য’ করে তোলে। আর ২০২৬ সালের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একজন ক্রেতা কেবল কারখানার এই জবাবদিহিতার সক্ষমতাটুকুই মূল্যায়ন করতে পারেন।

তা ছাড়া, কোনো কারখানা নিজের উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে যে নথি তৈরি করে, দিনের শেষে তা তার নিজস্ব বিবৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। তথ্যের উৎস-দায়বদ্ধতা এবং সঠিক সময়কাল এটিকে যাচাইযোগ্য করে তোলে এবং নীরবে পেছনের তারিখে তথ্য বদলানো কঠিন করে দেয় ঠিকই; কিন্তু এর ফলে নথিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘স্বাধীন পক্ষের দ্বারা যাচাইকৃত’ হয়ে যায় না। আর কোনো সৎ ব্যবস্থার উচিতও নয় কারখানাকে শর্তপূরণের এমন মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া। এর প্রকৃত উপযোগিতা বরং আরও সুনির্দিষ্ট এবং অমূল্য: এর মাধ্যমে ক্রেতা একেবারে স্বচ্ছভাবে দেখতে পান, কোন দাবিটির পেছনে কারখানার নিরেট নথিপত্র রয়েছে, কোনটি স্রেফ কারখানার নিজস্ব মুখের কথা, আর কোন জায়গাটিতে আদতে কোনো তথ্যই নেই। অন্ধকারে ঢিল না ছুঁড়ে, ক্রেতা তখন অনুমানের বদলে এই বস্তুনিষ্ঠ নিরিখে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

যে উত্তরটি ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করবে

হয়তো কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত বিপণন কর্মকর্তার একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা থেকে, প্রায় বিনা নোটিশে এবং অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে, যেই মুহূর্তে সেই কাঙ্ক্ষিত অথচ ভীতিকর প্রশ্নপত্রটি এসে হাজির হবে, তখন কেবল সেই কারখানাগুলো পরবর্তী ক্রয়াদেশটি নিজেদের ঝুলিতে পুরতে পারবে, যারা মেরুদণ্ড সোজা করে বলতে পারবে যে:

“হ্যাঁ, এই নিন আমাদের নিরেট নথিপত্র। উৎপাদন কক্ষে ঘটনাটি ঘটার ঠিক মুহূর্তেই একজন সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এটি লিপিবদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি, এই নথিটি ঠিক কতটুকু তথ্যের দায় নিচ্ছে আর কতটুকুর নিচ্ছে না, তার নির্মোহ ও সুস্পষ্ট সীমারেখা এখানে দেওয়া আছে।”

এর বাইরে যা কিছু হবে, তার পুরোটাই শেষ মুহূর্তের দিশেহারা দৌড়ঝাঁপ আর হাহাকার। এ দেশে যারা গত চারটি সনদ অর্জনের চক্রের ধকল পার করেছেন, তারা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন এই মরিয়া দৌড়ঝাঁপের মাশুল কতটা চড়া। তারা এটাও খুব ভালো করেই জানেন, অতীতের খতিয়ান পরে বসে মনগড়াভাবে জোড়াতালি দেওয়ার চেয়ে, শুরু থেকেই কাঠামোগতভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা সব সময়ই বহুগুণ সাশ্রয়ী।

বস্ত্র খাতের চূড়ান্ত আইন এখনো ব্রাসেলসের টেবিলে আটকে আছে। কিন্তু আপনার ক্রেতা সেই আইনের জন্য বসে থাকবে না।

সারাউন্ডঅ্যাপস রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর জন্য উৎসের তথ্য সংরক্ষণের এমন একটি ব্যবস্থা নির্মাণ করে, যাতে ক্রেতার প্রশ্ন এলে উত্তরটা শূন্য থেকে নতুন করে বানাতে না হয়, বরং সরাসরি সংরক্ষিত তথ্য থেকেই প্রামাণ্যভাবে পেশ করা যায়। এটি তথ্য সংরক্ষণের নকশা নিয়ে মাঠপর্যায়ের একজন পরিচালনাকারীর প্রায়োগিক দৃষ্টিভঙ্গি, কোনো আইনি পরামর্শ নয়।


Perspectives-এ ফিরে যান